খবরের শিরোনামঃ ইন্টারনেট গ্রাহক-গোপনীয়তা নীতি বাতিল করেছেন ট্রাম্প

খবরের তারিখঃ ২০১৭-০৪-০৫

-বণিক বার্তা ডেস্কঃ
ওবামার সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গ্রাহক-গোপনীয়তা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে একটি নিয়ম জারি করে। কিন্তু গত সোমবার এ নীতি বাতিল করে একটি নতুন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ আদেশ কার্যকর হলে দেশটির ব্রডব্যান্ডসহ সব ধরনের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও তা বিক্রির সুযোগ পাবে। খবর রয়টার্স ও নিউইয়র্ক টাইমস। বারাক ওবামার সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন্স কমিশন (এফসিসি) ‘ইন্টারনেট প্রাইভেসি প্রোটেকশন্স (আইপিপি)’ শীর্ষক একটি রুল জারি করে। গত সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক এর বিপরীত নীতিসংবলিত একটি কংগ্রেস রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেছেন। ফলে দেশটির ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গ্রাহকতথ্য সংগ্রহ ও এর ব্যবহার অনেক সহজ হয়ে গেল। আগে এসব তথ্য সংগ্রহ ও তা ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন পড়ত। কিন্তু নতুন এ নিয়ম চালু হলে এক্ষেত্রে আর কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। ফলে গ্রাহক তথ্যের অনৈতিক ব্যবহারের দায়ে শাস্তির শঙ্কায়ও ভুগতে হবে না ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। গত বছরের অক্টোবরে গ্রাহক-গোপনীয়তা রক্ষা-বিষয়ক নিয়মটি চালু করে ওবামা প্রশাসন। এখন পর্যন্ত কার্যকর না হলেও শুরু থেকেই এ নিয়মের বিরোধিতা করে আসছিল ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের মতে, এ নিয়মের আওতায় ফেসবুক ও গুগলের মতো ওয়েবসাইটগুলো না পড়ায় একতরফাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এটিঅ্যান্ডটি, ভেরাইজন, কমকাস্টের মতো ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে এর বিপরীত নীতি গ্রহণের কারণে ট্রাম্পকে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রশংসায় ভাসিয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানই। ঠিক বিপরীতভাবে নতুন এ নীতির সমালোচনায় মুখর হয়েছেন গ্রাহক অধিকার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট নীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এ নীতি কার্যকর হলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই গ্রাহকের ব্রাউজিং হিস্ট্রিসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। এসব তথ্য তখন বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছে বিক্রি করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। গ্রাহককে না জানিয়ে এসব তথ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে শক্ত কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় বিষয়টি অনেকটাই বাজারি প্রতিযোগিতা ও স্ব-নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাবে। এটি গ্রাহক-অধিকার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে অচিরেই একটি হুমকি হয়ে দেখা দেবে। এমআইটির ইন্টারনেট পলিসি রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের পরিচালক ড্যানি ওয়েইটজনার বলেন, আগের নীতিটি বাতিল করা হলেও গ্রাহক-সুরক্ষায় কোনো নতুন নীতি নেয়া হয়নি। এটি সংকটের সৃষ্টি করতে পারে। একই মত ভোক্তা অধিকার সম্পর্কিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পাবলিক নলেজের নীতি ও আইন কর্মকর্তা ডালাস হ্যারিসের। তিনি বলেন, গুগল ও ফেসবুক ছাড়া একজন ব্যক্তি চলতে পারে; কিন্তু বর্তমান সময়ে সমগ্র ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকা প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। এ কারণে নতুন এ নীতির কারণে গ্রাহক-গোপনীয়তার বিষয়টি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ বিষয়ে এফসিসি চেয়ারম্যান অজিত পাই বলেন, ইন্টারনেটে নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে ওবামার সময় গৃহীত এ নীতির একটি অংশ বাতিল করা হয়েছে। অনলাইন গ্রাহকদের সুরক্ষা নয়, বরং কিছু পছন্দসই কোম্পানিকে সুবিধা দিতেই নিয়মটি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে কাজ করব, যারা ওয়েবসাইটের বিষয়গুলো দেখে থাকে। ট্রাম্পের গৃহীত এ পদক্ষেপের প্রশংসা করে ইউএসটেলিকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী জোনাথন স্পালটার বলেন, এ নিয়ম ছিল অস্বচ্ছ। একই সঙ্গে এটি গ্রাহক-গোপনীয়তা কাঠামোর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি করতে পারত। এ কারণে এটি বাতিল করাটা খুবই যুগোপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। এদিকে এ আদেশে স্বাক্ষর না করার জন্য গত সপ্তাহেই ৪৬ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। ওই বিবৃতিতে তারা বলেন, আমেরিকানরা মনে করে, তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা আগের মতোই থাকা উচিত। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার ভেরাইজন, এটিঅ্যান্ডটিসহ বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এক বিবৃতিতে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে কাউকে দেব না কিংবা বিক্রি করব না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো স্ব-আরোপিত নৈতিকতায় বাঁধা থাকবে, এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। এ পরিপ্রেক্ষিতে নিশ্চিতভাবেই ইন্টারনেট গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য অযাচিত ব্যবহারের ঝুঁকিতে রয়েছে বলা যায়।

Source