খবরের শিরোনামঃ আন্তর্জাতিক ফোনে কল রেট কমাতে চায় বিটিআরসি

খবরের তারিখঃ ২০১৭-০৪-১১

-আশরাফুল ইসলাম
আন্তর্জাতিক কলের ব্যবসা থেকে সরকারের আয় বাড়াতে নতুন দুটি প্রস্তাব তৈরি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। একটি হলো এই ব্যবসা থেকে সরকারের আয়ের ভাগ ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৩ শতাংশ করা। আরেকটি হলো দেশে বিদেশি কল আনার সর্বোচ্চ মূল্য ২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১ টাকা ২৮ পয়সায় নামিয়ে আনা। এ ছাড়া কল আনার সর্বনিম্ন মূল্য ১ টাকা ২০ পয়সা করার সুপারিশ করেছে বিটিআরসি। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন দর, অর্থাৎ ১ টাকা ২০ পয়সা হিসাবে সরকারসহ সব পক্ষগুলোকে আয়ের ভাগ দিতে হবে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটরদের। বর্তমানে আইজিডব্লিউ অপারেটররা ১ টাকা ৬০ পয়সা দরে কল আনলেও আয় ভাগাভাগি হচ্ছে ১ টাকা ২০ পয়সা দরে। নিয়ম অনুযায়ী, এখন বিদেশ থাকা আসা প্রতি এক মিনিট কল থেকে যে আয় হয়, তার ৪০ শতাংশ সরকার, ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ আইসিএক্স, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মুঠোফোন অপারেটর আর বাকি ২০ শতাংশ আইজিডব্লিউ কোম্পানিগুলো পেয়ে থাকে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সরকার ৪৩ শতাংশ, আইজিডব্লিউ অপারেটর ১৮ শতাংশ ও মুঠোফোন অপারেটর পাবে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। আইসিএক্স অপারেটরের আয়ের অনুপাত আগের মতোই থাকবে। আন্তর্জাতিক কল ব্যবসা থেকে সরকারের আয় বাড়াতে গত বছরের ডিসেম্বরে বি টিআরসিকে দায়িত্বর দেয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এরপর বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবীব খানের সভাপতিত্বে একটি ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিনিধিদের রাখা হয়। কমিটি আইজিডব্লিউ, মুঠোফোন অপারেটর, আইসিএক্সসহ সব পক্ষের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করেছে। এসব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য শিগগির ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, যেসব প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে এই খাত থেকে সরকারের আয় ও কলের সংখ্যা দুটিই বাড়বে। এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০১৫ সালের ২৪ জুন থেকে আন্তর্জাতিক কল ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব আইওএফ (আইজিডব্লিউ অপারেটর ফোরাম) নামের বেসরকারি ব্যবসায়ী সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর থেকে কলের সংখ্যা কমতে শুরু করে। আইওএফ গঠনের তিন মাস পর কল রেট ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ টাকা ৬০ পয়সা করা হয়। কল রেট বাড়লেও বাড়তি আয় হওয়া ৪০ পয়সা পাচ্ছে শুধু আইজিডব্লিউ অপারেটররা। নিজেদের আয় নিশ্চিত করতে বর্তমান নিয়মের একটি ফাঁক কাজে লাগাচ্ছে তারা। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে কল রেটের সর্বনিম্ন সীমা (ফ্লোর রেট) ২ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমিয়ে ১ টাকা ২০ পয়সা করা হয়। ওই সময় সর্বনিম্ন দর, অর্থাৎ ১ টাকা ২০ পয়সায় রাজস্ব ভাগাভাগির নিয়ম রেখে আন্তর্জাতিক কল আনার নতুন পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়। সর্বনিম্ন কল রেট যখন ২ টাকা ৪০ পয়সা ছিল, তখন কল রেট বাড়ানোর সর্বোচ্চ সীমা (সিলিং রেট) ছিল ২ টাকা ৮০ পয়সা। কিন্তু কল রেট কমিয়ে ১ টাকা ২০ পয়সা করার সময় আর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। মূলত কল রেটের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে না দেওয়ার এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এখন বাড়তি ৪০ পয়সা আয় করছে আইজিডব্লিউ অপারেটররা। বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন বৈধ পথে এখন গড়ে সাড়ে ৬ কোটি মিনিট কল আসছে। আইওএফ চালুর আগে ২০১৫ সালে প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি মিনিটের বেশি কল আসত। অর্থাৎ, দুই বছরে কল আসা কমেছে ৪০ শতাংশের বেশি।

Source