খবরের শিরোনামঃ ইন্টারনেটে মূসক নয়

খবরের তারিখঃ ২০১৭-০৪-১৯

-নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ইন্টারনেট-সেবায় মূল্য সংযোজন কর (মূসক) চায় না মোবাইল ফোন অপারেটররা। বর্তমানে যেকোনো ইন্টারনেট-সেবায় ১৫ শতাংশ মূসক আরোপ আছে। এই মূসক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান প্রাক্-বাজেট আলোচনায় মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) এ দাবি করেছে। অ্যামটবের মতে, ইন্টারনেট মূসক প্রত্যাহার করা হলে সবাই সহজে ও সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে। সেগুনবাগিচার এনবিআর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। অ্যামটব প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির। অন্যদিকে সিম কর প্রত্যাহার চেয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটররা। বর্তমানে একটি সিম বিক্রি হলে ১০০ টাকা করে সিম কর দিতে হয়। এর পক্ষে অ্যামটবের যুক্তি হলো সিম কর বাদ দিলে গ্রামীণ গ্রাহকেরা আকৃষ্ট হবেন। মোবাইল ফোন অপারেটররা আর্থিকভাবে টিকে থাকবে। আবার যেকোনো সেবায় ১ শতাংশ সারচার্জের প্রত্যাহার চায় মোবাইল ফোন অপারেটররা। মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো করপোরেট কর কমানোর দাবি জানিয়ে বলেছে, মোবাইল ফোন কোম্পানির জন্য আলাদা কোনো কর স্তর রাখা ঠিক হবে না। অন্যান্য শ্রেণির মতো একই হারে কর দিতে চায় কোম্পানিগুলো। বর্তমানে সিগারেট ও মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো ৪৫ শতাংশ কর দেয়। আর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে ৪০ শতাংশ কর হার। এ বিষয়ে টি আই এম নুরুল কবির বলেন, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সিগারেট কোম্পানিগুলো যে কর দেয়; আর মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোও একই হারে কর দেয়। কর হার বেশি হওয়ায় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে উৎসাহিত হচ্ছে না। কোম্পানিগুলো আস্থাসংকটে থাকে। পুরো মোবাইল ফোন খাতের একটি নীতি পর্যালোচনা করা উচিত। মোবাইল ফোন অপারেটর রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাবউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে যে কর হার আছে; তাতে রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকের মতো প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না। গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পেটার বি ফারবার্গ বলেন, গ্রাহককে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। এতে অর্থনীতিতে অনেক বেশি প্রতিদান আসবে। বাজেট আলোচনায় অ্যামটব কর্মকর্তা শাহেদ আলম প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। এর আগে কৃষি, পোলট্রি, জ্বালানি ও গ্যাস, খাদ্য ও পানীয়, কেমিক্যালস, পেইন্ট ভার্নিস, টয়লেট্রিজ, জুয়েলারিসহ বিভিন্ন খাতের সঙ্গে প্রাক্-বাজেট আলোচনা হয়। সভায় এসব খাতের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন বাজেট প্রস্তাব দেন। বিক্রির ওপর ৬ শতাংশ মূসক আরোপের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ মিষ্টি প্রস্তুতকারক সমিতি। এই সমিতির মহাসচিব আমিনুর রহমান বলেন, মিষ্টি তৈরির মূল উপাদান দুধ, চিনি ও ময়দা সংগ্রহ করা হয় খুচরা দোকানিদের কাছ থেকে। তাদের কাছ থেকে রসিদ নেওয়া সম্ভব হয় না বলে উপকরণ রেয়াত নেওয়া যায় না। তাই ৬ শতাংশের বেশি মূসক আদায় করা একেবারেই অযৌক্তিক। কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদক সমিতি বলেছে, স্থানীয়ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির জন্য ৪৩ ধরনের যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয়। এসব যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্কমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে এই সংগঠনটি। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে যন্ত্রাংশ কেনার সময় ১৫ শতাংশ প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে কৃষি প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর করপোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। এ ছাড়া দেশীয় ফলের জুসের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ট্যারিফ মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অটো বিস্কুট ও ব্রেড প্রস্তুতকারক সমিতি। সমিতির প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্র্যাকারস, ডাইজেস্টিভ, চকলেট বিস্কুটের কেজিপ্রতি ১২০ টাকা থেকে কমিয়ে ১০০ টাকা; ক্রিম বিস্কুট ১০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৮০ টাকা এবং ড্রাইকেক কেজিপ্রতি ৮৫ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা।

Source